১৩ (bhalobasa esechhilo ekdin)

ভালোবাসা এসেছিল একদিন তরুণ বয়সে

নির্ঝরের প্রলাপকল্লোলে,

অজানা শিখর হতে

সহসা বিস্ময় বহি আনি

ভ্রূভঙ্গিত পাষাণের নিশ্চল নির্দেশ

লঙ্ঘিয়া উচ্ছল পরিহাসে,

বাতাসেরে করি ধৈর্যহারা,

পরিচয়ধারা-মাঝে তরঙ্গিয়া অপরিচয়ের

অভাবিত রহস্যের ভাষা,

চারি দিকে স্থির যাহা পরিমিত নিত্য প্রত্যাশিত

তারি মধ্যে মুক্ত করি ধাবমান বিদ্রোহের ধারা।

 

আজ সেই ভালোবাসা স্নিগ্ধ সান্ত্বনার স্তব্ধতায়

রয়েছে নিঃশব্দ হয়ে প্রচ্ছন্ন গভীরে।

চারি দিকে নিখিলের বৃহৎ শান্তিতে

মিলেছে সে সহজ মিলনে,

তপস্বিনী রজনীর তারার আলোয় তার আলো,

পূজারত অরণ্যের পুষ্প অর্ঘ্যে তাহার মাধুরী।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

প্রাণের রস
Verses
আমাকে শুনতে দাও,
                 আমি কান পেতে আছি।
                     পড়ে আসছে বেলা;
              পাখিরা গেয়ে নিচ্ছে দিনের শেষে
                কণ্ঠের সঞ্চয় উজাড়-করে-দেবার গান।
                     ওরা আমার দেহ-মনকে নিল টেনে
                  নানা সুরের, নানা রঙের,
                       নানা খেলার
                            প্রাণের মহলে।
                ওদের ইতিহাসের আর কোনো সাড়া নেই,
                কেবল এইটুকু কথা--
                        আছি, আমরা আছি, বেঁচে আছি,
                  বেঁচে আছি এই আশ্চর্য মুহূর্তে।--
                   এই কথাটুকু পৌঁছল আমার মর্মে।
         বিকালবেলায় মেয়েরা জল ভরে নিয়ে যায় ঘটে,
               তেমনি করে ভরে নিচ্ছি প্রাণের এই কাকলি
                          আকাশ থেকে
                               মনটাকে ডুবিয়ে দিয়ে।
            আমাকে একটু সময় দাও।
                আমি মন পেতে আছি।
ভাঁটা-পড়া বেলায়,
              ঘাসের উপরে ছড়িয়ে-পড়া বিকেলের আলোতে
                      গাছেদের নিস্তব্ধ খুশি,
                মজ্জার মধ্যে লুকোনো খুশি,
                      পাতায় পাতায় ছড়ানো খুশি।
            আমার প্রাণ নিজেকে বাতাসে মেলে দিয়ে
                নিচ্ছে বিশ্বপ্রাণের স্পর্শরস
                     চেতনার মধ্যে দিয়ে ছেঁকে।
                এখন আমাকে বসে থাকতে দাও,
                               আমি চোখ মেলে থাকি।
                                    তোমরা এসেছ তর্ক নিয়ে।
                               আজ দিনান্তের এই পড়ন্ত রোদ্দুরে
                                    সময় পেয়েছি একটুখানি;
                                এর মধ্যে ভালো নেই, মন্দ নেই,
                                    নিন্দা নেই, খ্যাতি নেই।
                               দ্বন্দ্ব নেই, দ্বিধা নেই--
                                    আছে বনের সবুজ,
                                জলের ঝিকিমিকি--
                               জীবনস্রোতের উপর তলে
               অল্প একটু কাঁপন, একটু কল্লোল,
                     একটু ঢেউ।
                    আমার এই একটুখানি অবসর
                         উড়ে চলেছে
                    ক্ষণজীবী পতঙ্গের মতো
              সূর্যাস্তবেলার আকাশে
                   রঙিন ডানার শেষ খেলা চুকিয়ে দিতে--
                           বৃথা প্রশ্ন কোরো না।
                  বৃথা এনেছ তোমাদের যত দাবি।
           আমি বসে আছি বর্তমানের পিছন মুখে
অতীতের দিকে গড়িয়ে-পড়া ঢালুতটে।
                   নানান বেদনায় ধেয়ে-বেড়ানো প্রাণ
                        একদিন করে গেছে লীলা
              ওই বনবীথির ডাল দিয়ে বিনুনি-করা
                                   আলোছায়ায়।
         আশ্বিনে দুপুর বেলা
              এই কাঁপনলাগা ঘাসের উপর,
                   মাঠের পারে, কাশের বনে,
                        হাওয়ায় হাওয়ায় স্বগত উক্তি
                   মিলেছে আমার জীবনবীণার ফাঁকে ফাঁকে।
                যে সমস্যাজাল
              সংসারের চারি দিকে পাকে-পাকে জড়ানো
                        তার সব গিঁঠ গেছে ঘুচে।
              যাবার পথের যাত্রী পিছনে যায় নি ফেলে
                কোনো উদ্‌যোগ, কোনো উদ্‌বেগ, কোনো আকাঙক্ষা;
                   কেবল গাছের পাতার কাঁপনে
                           এই বাণীটি রয়ে গেছে--
                                         তারাও ছিল বেঁচে,
                     তারা যে নেই তার চেয়ে সত্য ওই কথাটি।
                          শুধু আজ অনুভবে লাগে
                     তাদের কাপড়ের রঙের আভাস,
                          পাশ দিয়ে চলে যাওয়ার হাওয়া,
                               চেয়ে দেখার বাণী,
                                    ভালোবাসার ছন্দ--
                          প্রাণগঙ্গার পূর্বমুখী ধারায়
                               পশ্চিম প্রাণের যমুনার স্রোত।
আরো দেখুন
সম্মিলন
Verses
সেথায় কপোত-বধূ লতার আড়ালে
দিবানিশি গাহে শুধু প্রেমের বিলাপ।
নবীন চাঁদের করে একটি হরিণী
আমাদের গৃহদ্বারে আরামে ঘুমায়।
তার শান্ত নিদ্রাকালে নিশ্বাস পতনে
প্রহর গণিতে পারি স্তব্ধ রজনীর।
সুখের আবাসে সেই কাটাব জীবন,
দুজনে উঠিব মোরা, দুজনে বসিব,
নীল আকাশের নীচে ভ্রমিব দুজনে,
বেড়াইব মাঠে মাঠে উঠিব পর্বতে
সুনীল আকাশ যেথা পড়েছে নামিয়া।
অথবা দাঁড়াব মোরা সমুদ্রের তটে,
উপলমণ্ডিত সেই স্নিগ্ধ উপকূল
তরঙ্গের চুম্বনেতে উচ্ছ্বাসে মাতিয়া
থর থর কাঁপে আর জ্বল' জ্বল' জ্বলে!
যত সুখ আছে সেথা আমাদের হবে,
আমরা দুজনে সেথা হব দুজনের,
অবশেষে বিজন সে দ্বীপের মাঝারে
ভালোবাসা, বেঁচে থাকা, এক হ'য়ে যাবে।
মধ্যাহ্নে যাইব মোরা পর্বতগুহায়,
সে প্রাচীন শৈল-গুহা স্নেহের আদরে
অবসান রজনীর মৃদু জোছনারে
রেখেছে পাষাণ কোলে ঘুম পাড়াইয়া।
প্রচ্ছন্ন আঁধারে সেথা ঘুম আসি ধীরে
হয়তো হরিবে তোর নয়নের আভা।
সে ঘুম অলস প্রেমে শিশিরের মতো।
সে ঘুম নিভায়ে রাখে চুম্বন-অনল
আবার নূতন করি জ্বালাবার তরে।
অথবা বিরলে সেথা কথা কব মোরা,
কহিতে কহিতে কথা, হৃদয়ের ভাব
এমন মধুর স্বরে গাহিয়া উঠিবে
আর আমাদের মুখে কথা ফুটিবে না।
মনের সে ভাবগুলি কথায় মরিয়া
আমাদের চোখে চোখে বাঁচিয়া উঠিবে!
চোখের সে কথাগুলি বাক্যহীন মনে
ঢালিবে অজস্র স্রোতে নীরব সংগীত,
মিলিবেক চৌদিকের নীরবতা সনে।
মিশিবেক আমাদের নিশ্বাসে নিশ্বাসে।
আমাদের দুই হৃদি নাচিতে থাকিবে,
শোণিত বহিবে বেগে দোঁহার শিরায়।
মোদের অধর দুটি কথা ভুলি গিয়া
ক'বে শুধু উচ্ছ্বসিত চুম্বনের ভাষা।
দুজনে দুজন আর রব না আমরা,
এক হয়ে যাব মোরা দুইটি শরীরে।
দুইটি শরীর? আহা তাও কেন হল?
যেমন দুইটি উল্কা জ্বলন্ত শরীর,
ক্রমশ দেহের শিখা করিয়া বিস্তার
স্পর্শ করে, মিশে যায়, এক দেহ ধরে,
চিরকাল জ্বলে তবু ভস্ম নাহি হয়,
দুজনেরে গ্রাস করি দোঁহে বেঁচে থাকে;
মোদের যমক-হৃদে একই বাসনা,
দণ্ডে দণ্ডে পলে পলে বাড়িয়া বাড়িয়া,
তেমনি মিলিয়া যাবে অনন্ত মিলন।
এক আশা রবে শুধু দুইটি ইচ্ছার
এই ইচ্ছা রবে শুধু দুইটি হৃদয়ে,
একই জীবন আর একই মরণ,
একই স্বরগ আর একই নরক,
এক অমরতা কিংবা একই নির্বাণ,
হায় হায় এ কী হল এ কী হল মোর!
আমার হৃদয় চায় উধাও উড়িয়া
প্রেমের সুদূর রাজ্যে করিতে ভ্রমণ,
কিন্তু গুরুভার এই মরতের ভাষা
চরণে বেঁধেছে তার লোহার শৃঙ্খল।
নামি বুঝি, পড়ি বুঝি, মরি বুঝি মরি।
আরো দেখুন
১০১
Verses
১০১
কর্ম আপন দিনের মজুরি রাখিতে চাহে না বাকি।
যে প্রেমে আমার চরম মূল্য তারি তরে চেয়ে থাকি॥    
আরো দেখুন