বিদায় (biday )

যাও তবে প্রিয়তম সুদূর প্রবাসে

নব বন্ধু নব হর্ষ নব সুখ আশে।

সুন্দরী রমণী কত, দেখিবে গো শত শত

ফেলে গেলে যারে তারে পড়িবে কি মনে?

তব প্রেম প্রিয়তম, অদৃষ্টে নাইকো মম

সে-সব দুরাশা সখা করি না স্বপনে

কাতর হৃদয় শুধু এই ভিক্ষা চায়

ভুলো না আমায় সখা ভুলো না আমায়।

স্মরিলে এ অভাগীর যাতনার কথা,

যদিও হৃদয়ে লাগে তিলমাত্র ব্যথা,

মরমের আশা এই, থাক্‌ রুদ্ধ মরমেই

কাজ নাই দুখিনীরে মনে করে আর।

কিন্তু দুঃখ যদি সখা, কখনো গো দেয় দেখা

মরমে জনমে যদি যাতনার ভার,

ও হৃদয় সান্ত্বনার বন্ধু যদি চায়

ভুলো না আমায় সখা ভুলো না আমায়।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

ননীলাল বাবু যাবে লঙ্কা
Verses
         ননীলাল বাবু যাবে লঙ্কা;
         শ্যালা শুনে এল, তার
                    ডাক-নাম টঙ্কা।
বলে, 'হেন উপদেশ তোমারে দিয়েছে সে কে,
আজও আছে রাক্ষস, হঠাৎ চেহারা দেখে
  রামের সেবক ব'লে করে যদি শঙ্কা।
আকৃতি প্রকৃতি তব হতে পারে জম্‌কালো,
দিদি যা বলুন, মুখ নয় কভু কম কালো --
     খামকা তাদের ভয় লাগিবে আচমকা।
            হয়তো বাজাবে রণডঙ্কা।'
আরো দেখুন
বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহারো
Verses
       বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহারো
       সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারো।
              নয়কো বনে, নয় বিজনে
              নয়কো আমার আপন মনে,
       সবার যেথায় আপন তুমি, হে প্রিয়,
              সেথায় আপন আমারো।
                    সবার পানে যেথায় বাহু পসারো,
                    সেইখানেতেই প্রেম জাগিবে আমারো।
                           গোপনে প্রেম রয় না ঘরে,
                           আলোর মতো ছড়িয়ে পড়ে,
                    সবার তুমি আনন্দধন,হে প্রিয়,
                              আনন্দ সেই আমারো।
আরো দেখুন
ঘরের খেয়া
Verses
            সন্ধ্যা হয়ে আসে;
সোনা-মিশোল ধূসর আলো ঘিরল চারিপাশে।
নৌকোখানা বাঁধা আমার মধ্যিখানের গাঙে
অস্তরবির কাছে নয়ন কী যেন ধন মাঙে।
আপন গাঁয়ে কুটীর আমার দূরের পটে লেখা,
ঝাপসা আভায় যাচ্ছে দেখা বেগনি রঙের রেখা।
       যাব কোথায় কিনারা তার নাই,
পশ্চিমেতে মেঘের গায়ে একটু আভাস পাই।
হাঁসের দলে উড়ে চলে হিমালয়ের পানে,
পাখা তাদের চিহ্নবিহীন পথের খবর জানে।
শ্রাবণ গেল, ভাদ্র গেল, শেষ হল জল-ঢালা,
আকাশতলে শুরু হল শুভ্র আলোর পালা।
খেতের পরে খেত একাকার প্লাবনে রয় ডুবে,
লাগল জলের দোলযাত্রা পশ্চিমে আর পুবে।
আসন্ন এই আঁধার মুখে নৌকোখানি বেয়ে
     যায় কারা ঐ, শুধাই, "ওগো নেয়ে,
              চলেছ কোন্‌খানে।"
যেতে যেতে জবাব দিল, "যাব গাঁয়ের পানে।"
অচিন শূন্যে ওড়া পাখি চেনে আপন নীড়,
জানে বিজনমধ্যে কোথায় আপন জনের ভিড়।
অসীম আকাশ মিলেছে ওর বাসার সীমানাতে,
ঐ অজানা জড়িয়ে আছে জানাশোনার সাথে|
তেমনি ওরা ঘরের পথিক ঘরের দিকে চলে
যেথায় ওদের তুলসিতলায় সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বলে।
    দাঁড়ের শব্দ ক্ষীণ হয়ে যায় ধীরে,
            মিলায় সুদূর নীরে।
সেদিন দিনের অবসানে সজল মেঘের ছায়ে
আমার চলার ঠিকানা নাই, ওরা চলল গাঁয়ে।
আরো দেখুন