বারেক ভালোবেসে যে জন মজে (barek bhalobese je jon moje)

বারেক ভালোবেসে যে জন মজে

          দেবতাসম সেই ধন্য,

দ্বিতীয়বার পুন প্রেমে যে পড়ে

          মূর্খের অগ্রগণ্য।

আমিও সে দলের মূর্খরাজ

          দুবার প্রেমপাশে পড়ি;

তপন শশী তারা হাসিয়া মরে,

          আমিও হাসি-- আর মরি।

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Rendition

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

পরিচয়
Verses
তখন বর্ষণহীন অপরাহ্নমেঘে
            শঙ্কা ছিল জেগে;
       ক্ষণে ক্ষণে তীক্ষ্ন ভর্ৎসনায়
                 বায়ু হেঁকে যায়;
শূন্য যেন মেঘচ্ছিন্ন রৌদ্ররাগে পিঙ্গল জটায়
       দুর্বাসা হানিছে ক্রোধ রক্তচক্ষু কটাক্ষচ্ছটায়।
সে দুর্যোগ এনেছিনু তোমার বৈকালী,
                 কদম্বের ডালি।
            বাদলের বিষণ্ণ ছায়াতে
                        গীতহারা প্রাতে
নৈরাশ্যজয়ী সে ফুল রেখেছিল কাজল প্রহরে
রৌদ্রের স্বপনছবি রোমাঞ্চিত কেশরে কেশরে।
মন্থর মেঘেরে যবে দিগন্তে ধাওয়ায়
          পুবন হাওয়ায়,
     কাঁদে বন শ্রাবণের রাতে
          প্লাবনের ঘাতে,
তখনো নির্ভীক নীপ গন্ধ দিল পাখির কুলায়ে,
বৃন্ত ছিল ক্লান্তিহীন, তখনো সে পড়ে নি ধুলায়।
     সেই ফুলে দূঢ় প্রত্যাশার
          দিনু উপহার।
সজল সন্ধ্যায় তুমি এনেছিলে সখী,
     একটি কেতকী।
          তখনো হয় নি দীপ জ্বালা,
              ছিলাম নিরালা।
সারি-দেওয়া সুপারির আন্দোলিত সঘন সবুজে
জোনাকি ফিরিতেছিল অবিশ্রান্ত কারে খুঁজে খুঁজে।
দাঁড়াইলে দুয়ারের বাহিরে আসিয়া,
          গোপনে হাসিয়া।
     শুধালেম আমি কৌতূহলী
          "কী এনেছ' বলি।
পাতায় পাতায় বাজে ক্ষণে ক্ষণে বারিবিন্দুপাত,
গন্ধঘন প্রদোষের অন্ধকারে বাড়াইনু হাত।
ঝংকারি উঠিল মোর অঙ্গ আচম্বিতে
          কাঁটার সংগীতে।
     চমকিনু কী তীব্র হরষে
              পরুষ পরশে।
সহজ-সাধন-লব্ধ নহে সে মুগ্ধের নিবেদন,
অন্তরে ঐশ্বর্যরাশি, আচ্ছাদনে কঠোর বেদন।
     নিষেধে নিরুদ্ধ যে সম্মান
          তাই তব দান।
আরো দেখুন
সাতাশ
Verses
আমার এই ছোটো কলসিটা পেতে রাখি
ঝরনাধারার নিচে।
বসে থাকি
কোমরে আঁচল বেঁধে,
সারা সকালবেলা,
শেওলা ঢাকা পিছল পাথরটাতে
পা ঝুলিয়ে।
এক নিমেষেই ঘট যায় ভরে
তার পরে কেবলি তার কানা ছাপিয়ে ওঠে,
জল পড়তে থাকে ফেনিয়ে ফেনিয়ে
বিনা কাজে বিনা ত্বরায়;
ঐ যে সূর্যের আলোয়
উপচে-পড়া জলের চলে ছুটির খেলা,
আমার খেলা ঐ সঙ্গেই ছলকে ওঠে
মনের ভিতর থেকে।
সবুজ বনের মিনে-করা
উপত্যকার নীল আকাশের পেয়ালা,
তারি পাহাড়-ঘেরা কানা ছাপিয়ে
পড়ছে ঝরঝরানির শব্দ।
ভোরের ঘুমে তার ডাক শুনতে পায়
গাঁয়ের মেয়েরা।
জলের ধ্বনি
বেগনি রঙের বনের সীমানা যায় পেরিয়ে,
নেমে যায় যেখানে ঐ বুনোপাড়ার মানুষ
হাট করতে আসে,
তরাই গ্রামের রাস্তা ছেড়ে
বাঁকে বাঁকে উঠতে থাকে চড়াই পথ বেয়ে,
তার বলদের গলায়
রুনুঝুনু ঘণ্টা বাজে,
তার বলদের পিঠে
শুকনো কাঠের আঁটি বোঝাই-করা।
এমনি করে
প্রথম প্রহর গেল কেটে।
রাঙা ছিল সকালবেলাকার
নতুন রৌদ্রের রঙ,
উঠল সাদা হয়ে।
বক উড়ে চলেছে পাহাড় পেরিয়ে
জলার দিকে,
শঙ্খচিল উড়ছে একলা
ঘন নীলের মধ্যে,ঊর্ধ্বমুখ পর্বতের উধাও চিত্তে
নিঃশব্দ জপমন্ত্রের মতো।
বেলা হল,
ডাক পড়ল ঘরে।
ওরা রাগ করে বললে,
"দেরি করলি কেন?"
চুপ করে থাকি নিরুত্তরে।
ঘট ভরতে দেরি হয় না
সে তো সবাই জানে;
বিনাকাজে উপচে-পড়া-সময় খোওয়ানো,
তার খাপছাড়া কথা ওদের বোঝাবে কে?
আরো দেখুন
217
Verses
THE SERVICE of the fruit is precious, the service of the flower is sweet, but let my service be the service of the leaves in its shade of humble devotion.
আরো দেখুন