১৭৪ (ghate base achhi anmana)

ঘাটে বসে আছি আনমনা    যেতেছে বহিয়া সুসময়--

সে বাতাসে তরী ভাসাব না    যাহা তোমা-পানে নাহি বয় ॥

দিন যায় ওগো দিন যায়,    দিনমণি যায় অস্তে--

নিশার তিমিরে দশ দিক ঘিরে   জাগিয়া উঠিছে শত ভয় ॥

ঘরের ঠিকানা হল না গো,   মন করে তবু যাই-যাই--

ধ্রুবতারা তুমি যেথা জাগ     সে দিকের পথ চিনি নাই।

এত দিন তরী বাহিলাম       যে সুদূর পথ বাহিয়া--

শত বার তরী ডুবুডুবু করি     সে পথে ভরসা নাহি পাই ॥

তীর-সাথে হেরো শত ডোরে  বাঁধা আছে মোর তরীখান--

রশি খুলে দেবে কবে মোরে,   ভাসিতে পারিলে বাঁচে প্রাণ।

কবে অকূলের খোলা হাওয়া   দিবে সব জ্বালা জুড়ায়ে,

শুনা যাবে কবে ঘনঘোর রবে   মহাসাগরের কলগান ॥

রাগ: গৌরী-পূরবী

তাল: একতাল

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1307

রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1901

স্বরলিপিকার: কাঙ্গালীচরণ সেন

Rendition

Notation

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

যেতে যেতে একলা পথে
Songs
যেতে যেতে একলা পথে
              নিবেছে মোর বাতি।
ঝড় এসেছে, ওরে, এবার
              ঝড়কে পেলেম সাথি।
আকাশ-কোণে সর্বনেশে
ক্ষণে ক্ষণে উঠছে হেসে,
প্রলয় আমার কেশে বেশে
              করছে মাতামাতি।
যে পথ দিয়ে যেতেছিলেম
              ভুলিয়ে দিল তারে,
আবার কোথা চলতে হবে
              গভীর অন্ধকারে।
বুঝি বা এই বজ্ররবে
নূতন পথের বার্তা কবে,
কোন্‌ পুরীতে গিয়ে তবে
              প্রভাত হবে রাতি।
আরো দেখুন
ওগো কিশোর, আজি
Songs
ওগো   কিশোর, আজি তোমার দ্বারে   পরান মম জাগে।
          নবীন কবে করিবে তারে   রঙিন তব রাগে॥
ভাবনাগুলি বাঁধনখোলা   রচিয়া দিবে তোমার দোলা,
     দাঁড়িয়ো আসি হে ভাবে-ভোলা, আমার আঁখি-আগে॥
দোলের নাচে বুঝি গো আছ   অমরাবতীপুরে--
     বাজাও বেণু বুকের কাছে, বাজাও বেণু দূরে।
          শরম ভয় সকলি ত্যেজে   মাধবী তাই আসিল সেজে--
              শুধায় শুধু, "বাজায় কে যে মধুর মধুসুরে!'
     গগনে শুনি একি এ কথা, কাননে কী যে দেখি।
              একি মিলনচঞ্চলতা, বিরহব্যথা একি।
আঁচল কাঁপে ধরার বুকে,   কী জানি তাহা সুখে না দুখে--
     ধরিতে যারে না পারে তারে স্বপনে দেখিছে কি।
              লাগিল দোল জলে স্থলে,   জাগিল দোল বনে বনে--
          সোহাগিনির হৃদয়তলে বিরহিণীর মনে মনে।
              মধুর মোরে বিধুর করে   সুদূর কার বেণুর স্বরে,
                   নিখিল হিয়া কিসের তরে দুলিছে অকারণে।
আনো গো আনো ভরিয়া ডালি করবীমালা লয়ে,
     আনো গো আনো সাজায়ে থালি কোমল কিশলয়ে।
          এসো গো পীত বসনে সাজি,   কোলেতে বীণা উঠুক বাজি,
              ধ্যানেতে আর গানেতে আজি যামিনী যাক বয়ে।
          এসো গো এসো দোলবিলাসী বাণীতে মোর দোলো,
              ছন্দে মোর চকিতে আসি মাতিয়ে তারে তোলো।
                   অনেক দিন বুকের কাছে   রসের স্রোত থমকি আছে,
                        নাচিবে আজি তোমার নাচে সময় তারি হল॥
আরো দেখুন
কেন পান্থ, এ চঞ্চলতা
Songs
          কেন    পান্থ, এ চঞ্চলতা।
          কোন্‌   শূন্য হতে এল কার বারতা ॥
নয়ন কিসের প্রতীক্ষা-রত   বিদায়বিষাদে উদাসমত--
ঘনকুন্তলভার ললাটে নত,   ক্লান্ত তড়িতবধু তন্দ্রাগতা ॥
কেশরকীর্ণ কদম্ববনে   মর্মরমুখরিত মৃদুপবনে
বর্ষণহর্ষ-ভরা ধরণীর   বিরহবিশঙ্কিত করুণ কথা।
ধৈর্য মানো ওগো, ধৈর্য মানো!   বরমাল্য গলে তব হয় নি ম্লান'
              আজও হয় নি ম্লান'--
ফুলগন্ধনিবেদনবেদনসুন্দর   মালতী তব চরণে প্রণতা ॥
আরো দেখুন