৭৪ (ere bhikhari sajaye ki ranga)

          এরে    ভিখারি সাজায়ে কী রঙ্গ তুমি করিলে,

                   হাসিতে আকাশ ভরিলে ॥

পথে পথে ফেরে, দ্বারে দ্বারে যায়,    ঝুলি ভরি রাখে যাহা-কিছু পায়--

কতবার তুমি পথে এসে, হায়,    ভিক্ষার ধন হরিলে ॥

ভেবেছিল চির-কাঙাল সে এই ভুবনে,    কাঙাল মরণে জীবনে।

ওগো মহারাজা, বড়ো ভয়ে ভয়ে    দিনশেষে এল তোমারি আলয়ে--

আধেক আসনে তারে ডেকে লয়ে   নিজ মালা দিয়ে বরিলে ॥

রাগ: পিলু-বারোয়াঁ

তাল: দাদরা

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৩২১

রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1914

রচনাস্থান: রামগড়

স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Rendition

Notation

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

বাজাও তুমি, কবি
Songs
বাজাও তুমি  কবি, তোমার সঙ্গীত সুমধুর
          গম্ভীরতর তানে প্রাণে মম--
দ্রব জীবন ঝরিবে ঝর ঝর নির্ঝর তব পায়ে ॥
বিসরিব সব সুখ-দুখ, চিন্তা, অতৃপ্ত বাসনা--
বিচরিবে বিমুক্ত হৃদয় বিপুল বিশ্ব-মাঝে
             অনুখন আনন্দবায়ে ॥
আরো দেখুন
ওগো, তোমরা সবাই
Songs
          ওগো,   তোমরা সবাই ভালো--
যার অদৃষ্টে যেমনি জুটেছে, সেই আমাদের ভালো--
আমাদের এই আঁধার ঘরে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালো ॥
     কেউ বা অতি জ্বলো-জ্বলো,   কেউ বা ম্লান' ছলো-ছলো,
     কেউ বা কিছু দহন করে,   কেউ বা স্নিগ্ধ আলো ॥
নূতন প্রেমে নূতন বধূ   আগাগোড়া কেবল মধু,
পুরাতনে অম্ল-মধুর   একটুকু ঝাঁঝালো।
     বাক্য যখন বিদায় করে   চক্ষু এসে পায়ে ধরে,
     রাগের সঙ্গে অনুরাগে সমান ভাগে ঢালো ॥
আমরা তৃষ্ঞা, তোমরা সুধা-- তোমরা তৃপ্তি, আমরা ক্ষুধা--
তোমার কথা বলতে কবির কথা ফুরালো।
     যে মূর্তি নয়নে জাগে   সবই আমার ভালো লাগে--
     কেউ বা দিব্যি গৌরবরন,   কেউ বা দিব্যি কালো ॥
আরো দেখুন
খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে
Songs
         খাঁচার পাখি ছিল    সোনার খাঁচাটিতে,    বনের পাখি ছিল বনে।
         একদা কী করিয়া মিলন হল দোঁহে,    কী ছিল বিধাতার মনে।
         বনের পাখি বলে, ‘খাঁচার পাখি ভাই,    বনেতে যাই দোঁহে মিলে।’
         খাঁচার পাখি বলে, ‘বনের পাখি আয়,   খাঁচায় থাকি নিরিবিলে।’
         বনের পাখি বলে, ‘না,   আমি শিকলে ধরা নাহি দিব।’
         খাঁচার পাখি বলে, ‘হায়,   আমি কেমনে বনে বাহিরিব।’


         বনের পাখি গাহে বাহিরে বসি বসি    বনের গান ছিল যত,
         খাঁচার পাখি গাহে শিখানো বুলি তার—  দোঁহার ভাষা দুইমত।
         বনের পাখি বলে ‘খাঁচার পাখি ভাই,   বনের গান গাও দেখি।’
         খাঁচার পাখি বলে, ‘বনের পাখি ভাই,   খাঁচার গান লহো শিখি।’
         বনের পাখি বলে, ‘না,   আমি   শিখানো গান নাহি চাই।’
         খাঁচার পাখি বলে, ‘হায়   আমি  কেমনে বনগান গাই।’


         বনের পাখি বলে, ‘আকাশ ঘন নীল   কোথাও বাধা নাহি তার।’
         খাঁচার পাখি বলে, ‘খাঁচাটি পরিপাটি   কেমন ঢাকা চারিধার।’
         বনের পাখি বলে, ‘আপনা ছাড়ি দাও   মেঘের মাঝে একেবারে।’
         খাঁচার পাখি বলে, ‘নিরালা কোণে বসে   বাঁধিয়া রাখো আপনারে।’
         বনের পাখি বলে, ‘না,   সেথা   কোথায় উড়িবারে পাই !’
         খাঁচার পাখি বলে, ‘হায়,   মেঘে  কোথায় বসিবার ঠাঁই।’


         এমনি দুই পাখি দোঁহারে ভালোবাসে,    তবুও কাছে নাহি পায়।
         খাঁচার ফাঁকে ফাঁকে পরশে মুখে মুখে,   নীরবে চোখে চোখে চায়।
         দুজনে কেহ কারে বুঝিতে নাহি পারে,   বুঝাতে নারে আপনায়।
         দুজনে একা একা ঝাপটি মরে পাখা—কাতরে কহে, ‘কাছে আয় !’
         বনের পাখি বলে, ‘না,   কবে    খাঁচায় রুধি দিবে দ্বার !’
         খাঁচার পাখি বলে, ‘হায়,   মোর  শকতি নাহি উড়িবার।’
আরো দেখুন