২১ (ogo dekhi akhi tule chao)

ওগো, দেখি, আঁখি তুলে চাও,

তোমার চোখে কেন ঘুমঘোর।

আমি কী যেন করেছি পান,

কোন্‌ মদিরা রস-ভোর।

আমার চোখে তাই ঘুমঘোর।

ছি ছি ছি।

সখী, ক্ষতি কী।

(এ ভবে) কেহ জ্ঞানী অতি, কেহ ভোলামন,

কেহ সচেতন, কেহ অচেতন,

কাহারো নয়নে হাসির কিরণ,

কাহারো নয়নে লোর।

আমার চোখে শুধু ঘুমঘোর।

সখা, কেন গো অচলপ্রায়

হেথা, দাঁড়ায়ে তরুছায়।

অবশ হৃদয়ভারে, চরণ

চলিতে নাহি চায়,

তাই দাঁড়ায়ে তরুছায়।

ছি ছি ছি।

সখী, ক্ষতি কী।

(এ ভবে) কেহ পড়ে থাকে, কেহ চলে যায়,

কেহ বা আলসে চলিতে না চায়,

কেহ বা আপনি স্বাধীন, কাহারো

চরণে পড়েছে ডোর।

কাহারো নয়নে লেগেছে ঘোর।

রাগ: দেশ-মল্লার

তাল: দাদরা

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): অগ্রহায়ণ, ১২৯৫

রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1888

রচনাস্থান: কলকাতা, দার্জিলিং

স্বরলিপিকার: ইন্দিরা দেবী

Rendition

Notation

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

Related Topics

যা হারিয়ে যায়
Songs
যা    হারিয়ে যায় তা আগলে বসে
             রইব কত আর?
আর  পারি নে রাত জাগতে হে নাথ,
             ভাবতে অনিবার।
                    আছি রাত্রিদিবস ধরে
                    দুয়ার আমার বন্ধ করে,
                    আসতে যে চায় সন্দেহে তায়
                           তাড়াই বারে বার।
       তাই তো কারো হয় না আসা
              আমার একা ঘরে।
       আনন্দময় ভুবন তোমার
              বাইরে খেলা করে।
                    তুমিও বুঝি পথ নাহি পাও,
                    এসে এসে ফিরিয়া যাও,
                     রাখতে যা চাই রয় না তাও
                           ধুলায় একাকার।
আরো দেখুন
মনের মধ্যে নিরবধি শিকল গড়ার কারখানা
Songs
             মনের মধ্যে নিরবধি শিকল গড়ার কারখানা।
             একটা বাঁধন কাটে যদি বেড়ে ওঠে চারখানা।।
             কেমন ক’রে নামবে বোঝা,  তোমার আপদ নয় যে সোজা–
             অন্তরেতে আছে যখন ভয়ের ভীষণ ভারখানা।।
 
             রাতের আঁধার ঘোচে বটে বাতির আলো যেই জ্বালো,
             মূর্ছাতে যে আঁধার ঘটে রাতের চেয়ে ঘোর কালো।
             ঝড়-তুফানে ঢেউয়ের মারে  তবু তরী বাঁচতে পারে,
             সবার বড়ো মার যে তোমার ছিদ্রটার ওই মারখানা।।
 
             পর তো আছে লাখে লাখে, কে তাড়াবে নি:শেষে।
             ঘরের মধ্যে পর যে থাকে পর করে দেয় বিশ্বে সে।
             কারাগারের দ্বারী গেলে  তখনি কি মুক্তি মেলে।
             আপনি তুমি ভিতর থেকে চেপে আছ দ্বারখানা।।
 
             শূন্য ঝুলির নিয়ে দাবি রাগ ক’রে রোস্‌ কার ’পরে।
             দিতে জানিস তবেই পাবি, পাবি নে তো ধার ক’রে।
             লোভে ক্ষোভে উঠিস মাতি,  ফল পেতে চাস রাতারাতি–
             আপন মুঠো করলে ফুটো আপন খাঁড়ার ধারখানা।।
আরো দেখুন
দীর্ঘ জীবনপথ
Songs
দীর্ঘ জীবনপথ, কত দুঃখতাপ, কত শোকদহন--
          গেয়ে চলি তবু তাঁর করুণার গান ॥
খুলে রেখেছেন তাঁর    অমৃতভবনদ্বার--
শ্রান্তি ঘুচিবে, অশ্রু মুছিবে, এ পথের হবে অবসান ॥
অনন্তের পানে চাহি   আনন্দের গান গাহি--
          ক্ষুদ্র শোকতাপ নাহি নাহি রে।
অনন্ত আলয় যার   কিসের ভাবনা তার--
          নিমেষের তুচ্ছ ভারে হব না রে ম্রিয়মাণ ॥
আরো দেখুন