নটীর পূজা (natir puja)

     

    নাট্যোল্লিখিত পাত্রীগণ:
    লোকেশ্বরী - রাজমহিষী, মহারাজ বিম্বিসারের পত্নী; মল্লিকা - মহারানী লোকেশ্বরীর সহচরী; বাসবী নন্দা রত্নাবলী অজিতা ভদ্রা - রাজকুমারীগণ; উৎপলপর্ণা - বৌদ্ধ ভিক্ষুণী; শ্রীমতী - বৌদ্ধধর্মরতা নটী; মালতী - বৌদ্ধধর্মানুরাগিণী পল্লীবালা, শ্রীমতীর সহচরী; রাজকিংকরী ও রক্ষিণীগণ
    •  
    •  

    Rendition

    Please Login first to submit a rendition. Click here for help.

    Related Topics

    অরূপরতন
    Plays
    ভূমিকা সুদর্শনা রাজাকে বাহিরে খুঁজিয়াছিল। যেখানে বস্তুকে চোখে দেখা যায়, হাতে ছোঁওয়া যায়, ভাণ্ডারে সঞ্চয় করা যায়, যেখানে ধনজন খ্যাতি, সেইখানে সে বরমাল্য পাঠাইয়াছিল। বুদ্ধির অভিমানে সে নিশ্চয় স্থির করিয়াছিল যে, বুদ্ধির জোরে সে বাহিরেই জীবনের সার্থকতা লাভ করিবে। তাহার সঙ্গিনী সুরঙ্গমা তাহাকে বলিয়াছিল, অন্তরের নিভৃত কক্ষে যেখানে প্রভু স্বয়ং আসিয়া আহ্বান করেন সেখানে তাঁহাকে চিনিয়া লইলে তবেই বাহিরে সর্বত্র তাঁহাকে চিনিয়া লইতে ভুল হইবে না; -- নহিলে যাহারা মায়ার দ্বারা চোখ ভোলায় তাহাদিগকে রাজা বলিয়া ভুল হইবে। সুদর্শনা এ-কথা মানিল না। সে সুবর্ণের রূপ দেখিয়া তাহার কাছে মনে মনে আত্মসমর্পণ করিল। তখন কেমন করিয়া তাহার চারিদিকে আগুন লাগিল, অন্তরের রাজাকে ছাড়িতেই কেমন করিয়া তাহাকে লইয়া বাহিরের নানা মিথ্যা রাজার দলে লড়াই বাধিয়া গেল,-- সেই অগ্নিদাহের ভিতর দিয়া কেমন করিয়া আপন রাজার সহিত তাহার পরিচয় ঘটিল, কেমন করিয়া দুঃখের আঘাতে তাহার অভিমান ক্ষয় হইল এবং অবশেষে কেমন করিয়া হার মানিয়া প্রাসাদ ছাড়িয়া পথে দাঁড়াইয়া তবে সে তাহার সেই প্রভুর সঙ্গলাভ করিল, যে-প্রভু সকল দেশে, সকল কালে, সকল রূপে, আপন অন্তরের আনন্দরসে যাঁহাকে উপলব্ধি করা যায়,-- এ নাটকে তাহাই বর্ণিত হইয়াছে।
    এই নাট্য-রূপকটি "রাজা' নাটকের অভিনয়যোগ্য সংক্ষিপ্ত সংস্করণ -- নূতন করিয়া পুনর্লিখিত।
    শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    প্রস্তাবনা
    গান
    চোখ যে ওদের ছুটে চলে গো --
    ধনের বাটে মানের বাটে রূপের হাটে
    দলে দলে গো॥
    দেখবে ব'লে করেছে পণ,
    দেখবে কারে জানে না মন,
    প্রেমের দেখা দেখে যখন
    চোখ ভেসে যায় চোখের জলে গো॥
    আমায় তোরা ডাকিস না রে,
    আমি যাব খেয়ার ঘাটে অরূপ রসের পারাবারে।
    উদাস হাওয়া লাগে পালে,
    পারের পানে যাবার কালে
    চোখ দুটোরে ডুবিয়ে যাব
    অকূল সুধা-সাগর তলে গো॥

     

     

    আরো দেখুন
    ভগ্নহৃদয়
    Plays
    কাব্যের পাত্রগণ কবি; অনিল; মুরলা (অনিলের ভগ্নী ও কবির বাল্যসহচরী); ললিতা (অনিলের প্রণয়িনী); নলিনী (এক চপলস্বভাবা কুমারী; চপলা (মুরলার সখী)
    লীলা; সুরুচি মাধবী প্রভৃতি (নলিনীর সখীগণ)
    সুরেশ, বিজয়, বিনোদ প্রভৃতি (নলিনীর বিবাহ বা প্রণয়াকাঙ্ক্ষী)
    ভূমিকা  এই কাব্যটিকে কেহ যেন নাটক মনে না করেন। নাটক ফুলের গাছ। তাহাতে ফুল ফুটে বটে, কিন্তু সেই সঙ্গে মূল, কাণ্ড, শাখা, পত্র, এমন কি কাঁটাটি পর্য্যন্ত থাকা চাই। বর্ত্তমান কাব্যটি ফুলের মালা, ইহাতে কেবল ফুলগুলি মাত্র সংগ্রহ করা হইয়াছে। বলা বাহুল্য, যে, দৃষ্টান্তস্বরূপেই ফুলের উল্লেখ করা হইল।
    উপহার  শ্রীমতী হে ..........,

     

     


      হৃদয়ের বনে বনে সূর্য্যমুখী শত শত
    ওই মুখপানে চেয়ে ফুটিয়া উঠেছে যত।
    বেঁচে থাকে বেঁচে থাক্‌,   শুকায়ে শুকায়ে যাক্‌,
    ওই মুখপানে তারা চাহিয়া থাকিতে চায়।
    বেলা অবসান হবে,  মুদিয়া আসিবে যবে
    ওই মুখ চেয়ে যেন নীরবে ঝরিয়া যায়!

     

     


      জীবনসমূদ্রে তব জীবনতটিনী মোর
    মিশায়েছি একেবারে আনন্দে হইয়ে ভোর।
    সন্ধ্যার বাতাস লাগি   ঊর্ম্মি যত উঠে জাগি
    অথবা তরঙ্গ উঠে ঝটিকায় আকুলিয়া--
    জানে বা না জানে কেউ   জীবনের প্রতি ঢেউ
    মিশিবে-- বিরাম পাবে-- তোমার চরণে গিয়া।

     

     


      হয়ত জান না, দেবি, অদৃশ্য বাঁধন দিয়া
    নিয়মিত পথে এক ফিরাইছ মোর হিয়া।
    গেছি দূরে, গেছি কাছে,   সেই আকর্ষণ আছে,
    পথভ্রষ্ট হই নাক তাহারি অটল বলে।
    নহিলে হৃদয় মম   ছিন্নধূমকেতু-সম
    দিশাহারা হইত সে অনন্ত আকাশতলে!

     

     


      আজ সাগরের তীরে দাঁড়ায়ে তোমার কাছে;
    পরপারে মেঘাচ্ছন্ন অন্ধকার দেশ আছে।
    দিবস ফুরাবে যবে  সে দেশে যাইতে হবে,
    এ পারে ফেলিয়া যাব আমার তপন শশী--
    ফুরাইবে গীত গান,   অবসাদে ম্রিয়মাণ,
    সুখ শান্তি অবসান-- কাঁদিব আঁধারে বসি!

     

     


      স্নেহের অরুণালোকে খুলিয়া হৃদয় প্রাণ
    এ পারে দাঁড়ায়ে, দেবি, গাহিনু যে শেষ গান
    তোমারি মনের ছায়   সে গান আশ্রয় চায়--
    একটি নয়নজল তাহারে করিও দান।
    আজিকে বিদায় তবে,  আবার কি দেখা হবে--
    পাইয়া স্নেহের আলো হৃদয় গাহিবে গান?

     

     

    আরো দেখুন