সংস্কার
Stories
চিত্রগুপ্ত এমন অনেক পাপের হিসাব বড়ো অক্ষরে তাঁর খাতায় জমা করেন যা থাকে পাপীর নিজের অগোচরে। তেমনি এমন পাপও ঘটে যাকে আমিই চিনি পাপ বলে, আর-কেউ না। যেটার কথা লিখতে বসেছি সেটা সেই জাতের। চিত্রগুপ্তের কাছে জবাবদিহি করবার পূর্বে আগে-ভাগে কবুল করলে অপরাধের মাত্রাটা হাল্‌কা হবে।
ব্যাপারটা ঘটেছিল কাল শনিবার দিনে। সেদিন আমাদের পাড়ায় জৈনদের মহলে কী একটা পরব ছিল। আমার স্ত্রী কলিকাকে নিয়ে মোটরে করে বেরিয়েছিলুম-- চায়ের নিমন্ত্রণ ছিল বন্ধু নয়নমোহনের বাড়িতে।
আরো দেখুন
কথিকা
Stories
এবার মনে হল, মানুষ অন্যায়ের আগুনে আপনার সমস্ত ভাবী কালটাকে পুড়িয়ে কালো করে দিয়েছে, সেখানে বসন্ত কোনোদিন এসে আর নতুন পাতা ধরাতে পারবে না।
মানুষ অনেক দিন থেকে একখানি আসন তৈরি করছে। সেই আসনই তাকে খবর দেয় যে, তার দেবতা আসবেন, তিনি পথে বেরিয়েছেন।
আরো দেখুন
রীতিমত নভেল
Stories
'আল্লা হো আকবর' শব্দে রণভূমি প্রতিধ্বনিত হইয়া উঠিয়াছে। একদিকে তিনলক্ষ যবনসেনা, অন্যদিকে তিনসহস্র আর্যসৈন্য। বন্যার মধ্যে একাকী অশ্বত্থবৃক্ষের মতো হিন্দুবীরগণ সমস্ত রাত্রি এবং সমস্ত দিন যুদ্ধ করিয়া অটল দাঁড়াইয়া ছিল কিন্তু এইবার ভাঙিয়া পড়িবে, তাহার লক্ষণ দেখা যাইতেছে। এবং সেইসঙ্গে ভারতের জয়ধ্বজা ভূমিসাৎ হইবে এবং আজিকার ঐ অস্তাচলবর্তী সহস্ররশ্মির সহিত হিন্দুস্থানের গৌরবসূর্য চিরদিনের মতো অস্তমিত হইবে।
হর হর বোম্‌ বোম্‌! পাঠক বলিতে পার, কে ঐ দৃপ্ত যুবা পঁয়ত্রিশজন মাত্র অনুচর লইয়া মুক্ত অসি হস্তে অশ্বারোহণে ভারতের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর করনিক্ষিপ্ত দীপ্ত বজ্রের ন্যায় শত্রুসৈন্যের উপরে আসিয়া পতিত হইল? বলিতে পার, কাহার প্রতাপে এই অগণিত যবনসৈন্য প্রচণ্ড বাত্যাহত অরণ্যানীর ন্যায় বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠিল?-- কাহার বজ্রমন্দ্রিত 'হর হর বোম্‌ বোম্‌' শব্দে তিনলক্ষ ম্লেচ্ছকণ্ঠের 'আল্লা হো আকবর' ধ্বনি নিমগ্ন হইয়া গেল? কাহার উদ্যত অসির সম্মুখে ব্যাঘ্র-আক্রান্ত মেষষুথের ন্যায় শত্রুসৈন্য মুহূর্তের মধ্যে ঊর্ধ্বশ্বাসে পলায়নপর হইল? বলিতে পার, সেদিনকার আর্যস্থানের সূর্যদেব সহস্ররক্তকরস্পর্শে কাহার রক্তাক্ত তরবারিকে আশীর্বাদ করিয়া অস্তাচলে বিশ্রাম করিতে গেলেন? বলিতে পার কি পাঠক।
আরো দেখুন
ও জলের রানী,
Songs
             ও জলের রানী,
ঘাটে বাঁধা একশো ডিঙি--জোয়ার আসে থেমে,
বাতাস ওঠে দখিন-মুখে। ও জলের রানী,
        ও তোর          ঢেউয়ের নাচন নেচে দে--
ঢেউগুলো সব লুটিয়ে পড়ুক     বাঁশির সুরে কালো-ফণী॥
আরো দেখুন
গিন্নি
Stories
ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণী নীচে আমাদের পণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ। তাঁহার গোঁফদাড়ি কামানো, চুল ছাঁটা এবং টিকিটি হ্রস্ব। তাঁহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত।
প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়, যাহাদের হুল আছে তাহাদের দাঁত নাই। আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের দুই একত্রে ছিল। এ দিকে কিল চড় চাপড় চারাগাছের বাগানের উপর শিলাবৃষ্টির মতো অজস্র বর্ষিত হইত, ও দিকে তীব্র বাক্যজ্বালায় প্রাণ বাহির হইয়া যাইত।
আরো দেখুন
চণ্ডী
Stories
দিদি, তুমি বোধ হয় ও পাড়ার চণ্ডীবাবুকে জান?
জানি নে! তিনি যে ডাকসাইটে নিন্দুক।
আরো দেখুন
জয় ভৈরব
Songs
          জয় ভৈরব, জয় শঙ্কর!
জয়   জয় জয় প্রলয়ঙ্কর,   শঙ্কর শঙ্কর ॥
জয় সংশয়ভেদন,   জয় বন্ধনছেদন,
          জয় সঙ্কটসংহর   শঙ্কর শঙ্কর ॥
তিমিরহৃদ্‌বিদারণ   জ্বলদগ্নিনিদারুণ,
মরুশ্মশানসঞ্চর   শঙ্কর শঙ্কর!
বজ্রঘোষবাণী,   রুদ্র, শূলপাণি,
          মৃত্যুসিন্ধুসন্তর   শঙ্কর শঙ্কর ॥
আরো দেখুন
ও চাঁদ, তোমায়
Songs
        ও চাঁদ, তোমায় দোলা দেবে কে!
            ও চাঁদ, তোমায় দোলা--
                কে দেবে কে দেবে তোমায় দোলা--
    আপন আলোর স্বপন-মাঝে বিভল ভোলা॥
কেবল তোমার চোখের চাওয়ায়    দোলা দিলে হাওয়ায় হাওয়ায়,  
    বনে বনে দোল জাগালো ওই চাহনি তুফানতোলা॥
        আজ মানসের সরোবরে
কোন্‌ মাধুরীর কমলকানন দোলাও তুমি ঢেউয়ের 'পরে।
তোমার হাসির আভাস লেগে    বিশ্ব-দোলন দোলার বেগে
    উঠল জেগে আমার গানের কল্লোলিনী কলরোলা॥
আরো দেখুন
সদর ও অন্দর
Stories
বিপিনকিশোর ধনীগৃহে জন্মিয়াছিলেন, সেইজন্যে ধন যে পরিমাণে ব্যয় করিতে জানিতেন তাহার অর্ধেক পরিমাণেও উপার্জন করিতে শেখেন নাই। সুতরাং যে গৃহে জন্ম সে গৃহে দীর্ঘকাল বাস করা ঘটিল না।
সুন্দর সুকুমারমূর্তি তরুণ যুবক, গানবাজনায় সিদ্ধহস্ত, কাজকর্মে নিরতিশয় অপটু; সংসারের পক্ষে সম্পূর্ণ অনাবশ্যক। জীবনযাত্রার পক্ষে জগন্নাথদেবের রথের মতো অচল; যেরূপ বিপুল আয়োজনে চলিতে পারেন সেরূপ আয়োজন সম্প্রতি বিপিনকিশোরের আয়ত্তাতীত।
আরো দেখুন
হ্যাদে গো নন্দরানী,
Songs
           হ্যাদে গো নন্দরানী,   আমাদের   শ্যামকে ছেড়ে দাও।
আমরা  রাখাল-বালক দাঁড়িয়ে দ্বারে।   আমাদের   শ্যামকে দিয়ে যাও॥
          হেরো গো   প্রভাত হল, সুয্যি ওঠে, ফুল ফুটেছে বনে।
          আমরা   শ্যামকে নিয়ে গোষ্ঠে যাব আজ করেছি মনে।
          ওগো,   পীত ধড়া পরিয়ে তারে কোলে নিয়ে আয়।
          তার   হাতে দিয়ো মোহন বেণু, নূপুর দিয়ো পায়॥
          রোদের বেলায় গাছের তলায় নাচব মোরা সবাই মিলে।
          বাজবে নূপুর রুনুঝুনু, বাজবে বাঁশি মধুর বোলে।
          বনফুলে গাঁথব মালা, পরিয়ে দেব' শ্যামের গলে॥
আরো দেখুন